ভূপৃষ্টে মানুষের অস্তিত্বের প্রথম দিন থেকেই তারা প্রকৃতিকে বুঝতে চেয়েছে, সৃষ্টি পরিকল্পনায় নিজেদের মর্যাদা এবং জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।সত্য ধারাবাহিকতায় শত শত বছরব্যাপী বিভিন্ন সভ্যতার মধ্য দিয়ে সুসংবদ্ধ ধর্ম মানবজীবনকে সুসংগঠিত এবং ইতিহাসের গতি নির্ধারণ করেছে। কিছু ধর্ম তো লিখিত পুস্তক আকারে আছে এবং অনুরাগীরা সে গুলোকে ঐশী প্রত্যাদেশ হিসেবে দাবী করে।আর কিছু ধর্ম আছে যেগুলো কেবল মাত্র মানবিক অভিজ্ঞতার ফসল।ইসলামী বিশ্বাসের মূল উৎস হচ্ছে, আল-কোরাআন । মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে,এটা আল্লাহ পক্ষ থেকে এসেছে এবং তা গোটা মানব জাতির জন্য হেদায়েত । কোরআন যেহেতু সকল যুগের জন্য,তাই তা সকল যুগের জন্যই সামঞ্জস্যপণ্য।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,কোরআন কিসে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।আমি এ পুস্তিকায় কোরআনের ঐশী উৎসের আলোকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নিরীখে মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের বস্তুনিষ্ঠ ব্যাখ্যা দিতে চাই।বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এমন সময়
অতিবাহিত হয়েছে যখন ‘অলৌকিকতা’ অথবা ‘অনুভূত অলৌকিকতা’ মানবিক যুক্তি ও কারণের উপর অগ্রগণ্য ছিল।‘অলৌকিকতা’র সাধারন সংজ্ঞা হল, যা স্বাভাবিক নিয়ম বহিভূর্ত এবং মানুষের কাছে যার কোন ব্যাখ্যা নেই।কোন ‘অলৌকিক’ বিষয়কে গ্রহণ করার আগে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।১৯৯৩ সনে মোম্বাই থেকে প্রকাশিত‘The Times of india’পত্রিকা লিখেছে,‘বাবা পাইলট’ নামক এক ব্যক্তি পানির রিজার্ভারের নীচের একাধারে তিন্তদিন ও রাত কাটানোর দাবী করে ।সাংবাদিকরা সে রিজার্ভারটির তলদেশ পরীক্ষার দাবী জানালে সে তাদেরকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করে।তার যুক্তি ছিল,যে মা সন্তান প্রসব করে ,সে মায়ের পেট কিভাবে পরীক্ষা করা যায়? এখানে ‘সাধু’ ব্যক্তিটি অবশ্যই কিছু লুকানোর চেষ্টা করেছে।সে আত্ম প্রকাশের লক্ষ্য প্রতারণার কৌশল গ্রহণ করেছে।কোন আধুনিক ব্যক্তি কিংবা সামান্যতম যৌক্তিক চিন্তার অধিকারী লোকও এ জাতীয়‘অলৌকিকতা'কে গ্রহণ করতে পারেনা।এজাতীয় মিথ্যা অলৌকিকতা যদি ঐশী পরীক্ষা হয় তাহলে,বিশ্বের যাদু কৌশল ও মিথ্যার রূপকার প্রসিদ্ধ যাদুকরদেরকে সত্যিকার আল্লাহভক্ত মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে ।ঐশী গ্রন্থ অবশ্যই অলৌকিক হবে।এজাতীয় দাবী যুগের অবস্থাভেদে পরীক্ষাযোগ্য হওয়া উচিত।মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে,কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবতার প্রতি দয়া হিসেবে নাযিলকৃত সর্বশেষ গ্রহ্ন যা অলৌকিকতার সেরা।এখন আমার এই বিশ্বাসের যথার্থতা পরীক্ষা করে দেখবো।১. কোরআনের চ্যালেঞ্জ সকল সংস্কৃতিতে,সাহিত্য ও কবিতা মানুষের ভাব প্রকাশ ও সৃজনশীলতার হাতিয়ার।সাহিত্য ও কবিতা বিশ্বে এক সময় গর্বের মর্যাদা লাভ করেছিল যা বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি লাভ করেছে।
এমনকি অমুসলিম পন্ডিতেরা পর্যন্ত স্বীকার করেছে যে,কোরআন হল সর্বোৎকৃষ্ট আরবী সাহিত্য।ভূপ্রষ্ঠে এর চাইতে শ্রেষ্ঠ সাহিত্য দ্বিতীয়টি নেই।কোরআন মানবজাতিকে এরূপ গ্রন্থ আবিষ্কারের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে।আল্লাহ বলেনঃ
----------------------------
‘আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি,এ বিষয়ে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে,তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস।আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদেরকেও সাথে নাও- যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।আর যদি তা না পার,অবশ্য তোমরা তা কখনও পারবেনা,তাহলে,সে দোযখের আগুন থেকে পানা চাও,যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। সূরা বাকারা-২৩-২৪
কোরআন তার যে কোন একটি মাত্র সূরার মত অনুরূপ আরেকটি সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ দিয়েছে।কোরআনে বহুবার একই ধরণের চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তিও হয়েছে।বর্তমান কাল পর্যন্ত কোরআনের সূরার মত সৌন্দর্য,অলংকার,গভীরতা ও অর্থের দিক থেকে সমমানের আরেকটি সূরা চ্যালেঞ্জ অপূরণকৃত রয়ে গেছে।বর্তমান যুগের কোন লোক পৃথিবী চেপ্টা এ মর্মে সর্বোত্তম কাব্যিক ভঙ্গীতে কোন ধর্মীয় পুস্তকের বক্তব্যকে মেনে নেবে না। কেননা ,আমরা যে যুগে বাস করছি ,সে যুগে মানবিক কারন , যুক্তি ও বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়া হয় । কোরআনের অতি চমকপ্রদ ও সুন্দর ভাষার জন্য অনেকেই একে ঐশী গ্রন্থ হিসাবে মেনে নিতে চাইবে না । কোন ঐশী গ্রন্থের দাবীদার কে অবশ্যই যুক্তি ও কারণের শক্তির দিক থেকে ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে ।
প্রখ্যাত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনেষ্টাইন বলেছেনঃ বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ । আসুন আমরা কোরআন নিয়ে গবেষনা চালাই যে,তা বজ্ঞানের সাথে সামজ্ঞস্যপূর্ন না অসামজ্ঞস্যপূন্য ।কোরআন কোন বিজ্ঞান গ্রন্থ নয় , বরং নিদর্শন গ্রন্থ । এতে ৬ হাজার নিদর্শন (আয়াত ) আছে । এক হাজারেরও বেশী আয়াত বিজ্ঞানের মূল বিষয় বসতু নিয়ে আলোচনা করেছে ।
আমরা সকলে জানি যে, বিজ্ঞান অনেক সময় সিদ্বান্ত পরিবর্তন করে । এই পুস্তিকায় আমি কেবল বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সত্য (Fact )নিয়ে আলোচনা করবো , কল্পনা বা ধারনার উপর নির্ভরশীল তত্ত্ব নয় , যা প্রমানিত হয়নি ।
২. জ্যোতিষ শাস্ত্র
বিশ্ব সৃষ্টি ও মহা বিস্ফোরণ (বিগ ব্যাংগ )
বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে জ্যোতিবিদের প্রদত্ত ব্যাখ্যা ব্যাপকহারে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নভোচারী ও জ্যোতিবিদদের সংগৃহীত ও পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষামূলক উপাত্ত দ্বারাও তা সমর্থিত হয়েছে । মহা বিস্ফোরণ তত্ত অনুযায়ী মহাবিশ্ব ছিল প্রথমে একটি বিশাল নীহারিকা ।পরে ২য় পর্যায়ে তাতে এক বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে । ফলে ছায়া পথ তৈরী হয় । এগুলো পরে তারকা , গ্রহ , সূর্য ও চন্দ্র ইত্যাদিতে রুপান্তরিত হয় ।বিশ্বের সূচনা বিষ্ময়কর এবং দৈবক্রমে তা ঘটার সম্ভাবনা শূন্য পর্যায়ে।
পবিত্র কোরআন মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াতে বলেছে ,
--------------------
“কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মূখ বন্ধ ছিল , তারপর আমি ঊভয়কে খুলে দিলাম।” - সূরা আম্বিয়া-৩০
ছায়াপথ সৃষ্টির আগে প্রাথমিক গ্যাস পিন্ডবিজ্ঞানীরা একমত যে ,মহা বিশ্বে ছায়াপথ তৈরীর আগে আকাশ সম্পর্কিত পদার্থগুলো গ্যাস জাতীয় জিনিস ছিল।সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিপুল সংখ্যক গ্যাসজাতীয় পদার্থ কিংবা মেঘ, ছায়া পথ তৈরীর আগে বিদ্যমান ছিল।আকাশ সম্পর্কিত প্রাথমিক পদার্থকে গ্যাস অপেক্ষা ধুঁয়া বলা বেশী সঙ্গত।কোরআন মজীদ ধুঁয়া দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির ঐ অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ
---------------------------------
“তার পর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা কিছু ধূঁম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবী বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল আমরা সেচ্ছায় আসলাম। - সূরা হা-মীম সাজদাহ-১১
এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, এ অবস্থায় মহাবিস্ফোরণেরই ফল এবং মহানবী মোহাম্মদ (ছঃ) এর আগে এ বিষয়টি কারো জানা ছিল না।তাহলে প্রশ্ন জাগে, এ জ্ঞানের উৎস কি ?
পৃথিবীর আকার গোলপ্রথম যুগে মানুষ বিশ্বাস করত যে, পৃথিবী চেপ্টা ছিল।বহু শতাব্দী ব্যাপী মানুষ দূরে সফরে যেতে ভয় পেত কি জানি পৃথিবীর কিনারা থেকে পড়ে যায় কিনা।স্যার ফ্রনকিস ড্র্যাক প্রথম প্রমান করেন যে, পৃথিবী গোলাকার । তিনি ১৫৯৭ সনে পৃথিবীর চারপাশে নৌভ্রমন করেন।আমরা দিবা রাত্রির আবর্তনের ব্যাপারে কোরআনের নিন্মোক্ত আয়াতটি বিবেচনা করতে পারি।
আরবী ---------------------------
“আপনি কি দেখেনা আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান ? -সূরা লোকমান - ২৯
অর্থাৎ রাত আস্তে আস্তে এবং ক্রমান্বয়ে দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিন ও আস্তে আস্তে এবং ক্রমান্বয়ে রাতে পরিবর্তিত হয়। পৃথিবী গোলাকৃতির হলেই কেবল এ ঘটনা ঘটতে পারে ।
নিম্নের আয়াত দ্বারাও পৃথিবী যে গোলাকার তা বুঝা যায়্ আল্লাহ বলেনঃ
আরবী ---------------------------------
তিনি আসমান ও জামিন কে সৃষ্টি করেছেন যথার্থভাবে। তিনি রাতকে দিন দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন।” সূরা যোমর -৫
আয়াতে ব্যবহৃত (আরবী) শব্দের অর্থ হলো কুন্ডলী পাকানো বা কোন জিনিসকে প্যাঁচানো । যেমন করে মাথায় পাগড়ী প্যাঁচানো হয়। রাত ও দিনের আবর্তন তখনই সম্ভব যখন পৃথিবী গোলাকার হয়।
পৃথিবী বলের মত গোলাকার নয়, বরং মেরুকেন্দ্রিক চেপ্টা।
নিম্নের আয়াতে পৃথিবীর আকৃতির বর্ননা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, (আরবী)“তিনি পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।” সূরা নাযিআত -৩০
আরবী শব্দ এর দুটো অর্থ আছে। একটি অর্থ হলো উঠপাখির ডিম।উটপাখীর ডিমের আকৃতির মতই পৃথিবীর আকৃতি মেরুকেন্দ্রিক চেপ্টা । অন্য অর্থ হল ‘সম্প্রসারিত করা’। উভই অর্থই বিশুদ্ধ।
কোরআন এভাবেই পৃথিবীর আকৃতি বিশুদ্ধভাবে বর্ণনা করেছে।অথচ যখন কোরআন যখন নাযিল হয় তখন প্রচলিত ধারনা ছিল পৃথিবী হচ্ছে চেপ্টা।
চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো আগের সভ্যতা গুলোর ধারণা ছিল,চাঁদের নিজস্ব আলো আছে।কিন্তু বিজ্ঞান বর্তমানে আমাদেরকে বলে যে,চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো।এ সত্যটি কোরআন আমাদেরকে আজ থেকে ১৪শ বছর আগে বলেছে।আল্লাহ বলেনঃ
---------------------------------(আরবী )
“কল্যাণময় তিনি ,যিনি নভোমণ্ডলকে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।”- সূরা ফুরকান-৬১
আরবীতে সূর্যকে (আরবী ) বলে।কোরআনে (আরবী )শব্দ দ্বারাও সূর্য বুঝানো হয়েছে।এর অর্থ হল,বাতি বা র্মশাল।অন্য জায়গায় ,সূর্যকে (আরবী) উল্লেখ করা হয়েছে।এর অর্থ হল ‘জ্বলন্ত কিরণোজ্জল বাতি বা মশাল।’অন্য আরেক জায়গায়, একই অর্থ বুঝানোর জন্য (আরবী ) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।এর অর্থ হল ‘কিরণোজ্জল সূর্য ’।এই তিনটি বর্ণনাই সূর্যের উপযোগী।কেননা,সূর্য নিজ দহনক্রিয়ায় ব্যাপক তাপ ও আলো উৎপাদন করে।
চাঁদের আরবী প্রতিশব্দ হল (আরবী ) কোরআন চাঁদকে (আরবী ) বলেছে।এর অর্থ হল‘ স্নিগ্ধ আলোদানকারী।’অর্থাৎ প্রতিফলিত আলো দেয়।কোরআনের বর্ণনা চাঁদের আসল প্রকৃতির সাথে খাপ খায়।চাঁদ নিজ থেকে আলো দেয় না।বরং তা এমন এক নিষ্ক্রীয় জিনিস যার উপর সূর্যের আলোর প্রতিবিম্ব ঘটে।কোরআনে কখনও চাঁদকে (আরবী )কিংবা (আরবী ) বলা হয়নি এবং সূর্যকেও (আরবী )কিংবা (আরবী ) বলা হয়নি।
এর দ্বারা বুঝা যায় যে,কোরআন সূর্য ও চাঁদের আলোর মধ্যকার পার্থক্যকে স্বীকার করে।
নিম্নের আয়াত,চাঁদ ওসূর্যের আলোর প্রকৃতি উল্লেখ করেছে।আল্লাহ বলেনঃ
--------------------------------------(আরবী )
“তিনিই সত্তা যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জল এবং চাঁদকে স্নিন্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।”সুরা ইউনুস-৫
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেনঃ
------------------------- (আরবী )
“তোমরা কি লক্ষ্য করনা যে,আল্লাহ কিভাবে সাত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন,সেখানে চাঁদকে রেখেছেন স্নিন্ধ আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে ?”- সুরা নূহ-১৫-১৬
মহান কোরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞান চাঁদ ও সূর্যের আলোর ব্যবধানের ব্যাপারে অভিন্ন কথা বলে।
সূর্যের আবর্তনদীর্ঘদিন ব্যাপী ইউরোপীয় দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করত যে,পৃথীবি মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং সূর্য সহ অন্যান্য জিনিসগুলো একে কেন্দ্র করে চারদিকে ঘুরে।এ ভূকেন্দ্রিক ধারণা,পাশ্চাত্যে খৃষ্টপৃর্ব ২য় শতাব্দীতে টলেমীর যুগ থেকে বিদ্যামান ছিল।১৫১২ খৃঃ নিকোলাস কোপারনিকাস গ্রহের গতি আছে মর্মে- সূর্যকেন্দ্রিক তত্ব দেন।এই তত্বে বলা হয়,সৌরজগতের কেন্দবিন্দু- সূর্য গতিহীন।কিন্তু অন্যান্য গ্রহগুলো একে কেন্দ্র করে চারদিকে ঘুরে।
১৬০৯ খৃঃ জার্মান বিজ্ঞানী ইউহান্নাস কেপলার ‘Astronomia Nova’নামক একটি বই প্রকাশ করেন।তিনি তাতে মত প্রকাশ করেন যে, গ্রহগুলো শুধুমাত্র সূর্যের চারদিকে ডিম্বাকৃতির কক্ষপথেই চলে না,বরং সেগুলো নিজ নিজ কক্ষপথে অনিয়মিত গতিতে আবর্তিত হয়।এ জ্ঞানের আলোকে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের পক্ষে সৌরজগতের বহু বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হয়েছে,যার মধ্যে দিন রাতের বিষয়টি অন্যতম।
এসকল আবিষ্কারের পর ধারনা করা হয় যে, সূর্য স্থিতিশীল যা পৃথিবীর মত নিজ কক্ষপথে আবর্তন করে না।আমি স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভুগোলে এ ভুল মতটি পড়েছি বলে মনে পড়ে।
আমরা এখন কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি ব্যাখ্যা করবো।আল্লাহ বলেনঃ
---------------------------(আরবী )
“তিনি সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং চাঁদ- সূর্য। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।”(সূরা আম্বিয়া -৩৩ )
এ আয়াতে (আরবী )শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে যা (আরবী ) থেকে এসেছে।শাব্দিক অর্থ সাঁতার কাটা।এ শব্দটি কোন জিনিসের গতি বুঝানোর জন্য ব্যবহূত হয়।আপনি যমীনে কোন ব্যাক্তির জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করলে এর অর্থ এটা নয় যে, তিনি গড়াগড়ি দিচ্ছেন।বরং এর অর্থ হবে তিনি হাটেন বা দৌড়ান।আর পানিতে অবস্থানকারী কোন ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করলে এর অর্থ তিনি ‘ভাসেন’হবেনা ,বরংএর অর্থ হবে ,তিনি সাঁতার কাটেন।
অনুরূপভাবে আপনি যদি শব্দটি আকাশ সম্পকির্ত কোন জিনিস,যেমন সূর্য সম্পর্কে ব্যবহার করেন,তখন এর অর্থ শুধু মহাশূন্যে উড়া নয়,বরং এর অর্থ হল,তা মহাশূন্যে আবর্তিত হয়।স্কুলের অধিকাংশ পাঠ্যপুস্তকে এ সত্যটি উল্লেখ আছে যে,সূর্য নিজ কক্ষপথে ঘুরে।সূর্যের নিজ কক্ষে আবর্তনকে বুঝার জন্য টেবিলের উপরে সূর্যের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা দরকার।চোখ বাঁধা না হলে যে কেউ সূর্যের প্রতিকৃতিটি পরীক্ষা করতে পারে।দেখা গেছে,সূর্যের রয়েছে অবস্থান স্থলসমূহ যা প্রতি ২৫দিনে একবার আবর্তন করে থাকে।অর্থাৎ নিজ কক্ষপথে আবর্তন করতে সূর্যের প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে।
সূর্য প্রতি সেকেন্ডে মহাশূনে ২৪০ কিলোমিটার গতিতে চলে।আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে একবার তার আবর্তন করতে ২০০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেনঃ
------------------------------- (আরবী )
“সূর্য নাগার পেতে পারে না চাঁদের এবং রাত আগে চলে না দিনের।প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে।” সূরা ইয়াসিন -৪০
এ আয়াতে এমন সব বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে, যা মাত্র সম্প্রতি আধুনিক জ্যোতিষ শাস্ত্র আবিষ্কার করেছে।সেগুলো হল,চাঁদ ও সূর্যের স্বতন্ত্র কক্ষপথ আছে এবং সেগুলো নিজস্ব গতিতে মহাশূন্যে ভ্রমন করছে।
সূর্য সৌরজগতকে নিয়ে যে নির্দ্দিষ্ট স্থানের দিকে চলছে,সে স্থানটি আধুনিক জ্যোতিষশাস্ত্র সুনির্দ্দিষ্টভাবে আবিষ্কার করেছে।এর নামকরণ করা হয়েছে সৌর শৃঙ্গ বা (Solar Apex )।সৌরজগত মহাশূন্যে যে দিকে ধাবিত হয়,সে দিকটির অবস্থান বর্তমানে যথার্থ ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং সেটি হল বৃহদাকারের এক গ্রুপ তারকা। Consellation of Hercules(Alpha Lyrae )
চাঁদ নিজ কক্ষপথে অতটুকু সময়ে একবার আবর্তন করে,পৃথিবীর চারদিক ঘুরতে যতটুকু সময় লাগে।একবার ঘুরে আসতে তার সাড়ে ২৯ দিন সময় লাগে।
কোরআনের আয়াতের বৈজ্ঞানিক যথার্থতা সম্পর্কে যে কেউ আশ্চর্য না হয়ে পারেনা।আমাদের কি এ প্রশ্নের উপর চিন্তা করা উচিত নয় যে,কোরআনের জ্ঞানের উৎস কি?
সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবেবিগত ৫ বিলিয়ন বছর ব্যাপী রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সূর্যের দেহে তাপ সৃষ্টি হচ্ছে।ভবিষ্যতে এক সময়ে এর অবসান ঘটবে এবং তখন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।ফলে পৃথিবীর সকল অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।সুর্যের অস্থায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেনঃ
-----------------------------(আরবী )
“সূর্য তার নির্দ্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে।এটা পরাক্রমশ্যালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ”(সূরা ইয়াসিন-৩৮) অনূরূপ বর্ণনা সূরা রাদ- এর ২নং আয়াত ,সূরা ফাতের এর ১৩নং আয়াত ,সূরা যোমারের ৫নং আয়াত ও ২১নং আয়াতে আছে।
এখানে উল্লেখিত ( আরবী )শব্দটির অর্থ হল‘নির্দ্দিষ্ট স্থান’ বা ‘সময়’।কোরআন বলেছে,সূর্য একটা নির্ধারিত স্থানের দিকে আবর্তিত হচ্ছে যা একটা নির্দ্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।এর অন্য অর্থ হল,একদিন তার অবসান ঘটবে।এমর্মে আল্লাহ বলেন (আরবী )‘যখন সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।(সূরা তাকবীর-১ )সূর্যের নিষ্প্রভ হওয়া কেয়ামতের লক্ষণ।
মহাশূন্যে বস্তুর অস্তিত্বসুসংগঠিত সৌরজগতের বাইরের স্থানকে প্রথমে শুণ্য মনে করা হত।জ্যোতির্বিদরা পরবর্তীতে মহাশুন্যে বস্তুর সেতু আবিষ্কার করেন।বস্তুর সেতুকে প্লাজমা বলে,যাতে পারমানবিক গ্যাস রয়েছে এবং তাতে সমান সংখ্যক মুক্ত ইলেকট্রন ও ইতিবাচক পরমাণু আছে।কোন কোন সময় প্লাজমাকে বস্তুর ৪র্থ অবস্থা বলে।অন্য তিনটি অবস্থা হল,কঠিন তরল এবং বায়বীয়। কোরআন নিম্নের আয়াতে মহাশুন্যের ঐ বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে কথা বলেছে।আল্লাহ বলেনঃ (আরবী ) “তিনি সে সত্তা যিনি আসমান ও যমীন এবং এ দুয়ের মাঝে অবস্থিত সকল সৃষ্টি করেছেন। সূরা ফোরকান-৫৯
১৪০০ বছর আগে মহাশূন্যে সৌর বস্তুর জ্ঞান অস্তিত্বের জ্ঞান সম্পর্কে বললে যে কেউ তা উপহাস করতে পারে।
সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব১৯২৫খৃঃ জ্যোতির্বিদ এডউইন হাবেল পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণের সাহায্যে বলেছেন,প্রতিটি ছায়াপথ অন্য ছায়াপথ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলে।এর অপর অর্থ হল,মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এখন বৈজ্ঞানিক সত্য।কোরআন মহাবিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে একই কথা বলেছে।আল্লাহ বলেনঃ
------------------------------(আরবী )
“আমি নিজ ক্ষমতা বলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই এর সম্প্রসারণকারী।”সূরা যারিয়াত-৪৭
আরবী শব্দ (আরবী ) এর বিশুদ্ধ অনুবাদ হল,‘সম্প্রসারণকারী।’এটা মহাবিশ্বের ব্যাপক সম্প্রসারণশীলতার প্রতি ইঙ্গিতবাহী।
প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ স্টিফেন হকিং তার A Brief History of time বইতে লিখেছেন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত আবিষ্কার বিংশ শতাব্দীর মহান বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব।মানুষ কর্তৃক টেলিষ্কোপ আবিষ্কারের পূর্বে কোরআন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, আরবরা যেহেতু জ্যোতির্বিদ্যায় অগ্রসর ছিল,সেহেতু কোরআনে জ্যোতিবিজ্ঞান সম্পর্কিত সত্যের উল্লেখ আশ্চর্যের বিষয় নয়।জ্যোতির্বিদ্যায় আরবদের অগ্রসরতার প্রতি তাদের স্বীকৃতি সত্য বটে।কিন্তু জ্যোতির্বিদ্যায় আরবদের অগ্রসরতার কয়েক শতাব্দী পূর্বে কোরআন নাযিল হয়েছিল। অধিকন্তু আরবরা তাদের বৈজ্ঞানিক শৌর্যবীর্যের সময়ে ও উল্লিখিত বিগ ব্যাং -এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছু জানত না।জ্যোতির্বিদ্যার অগ্রগতির কারণে কোরআনে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক সত্যগুলোতে আরবদের কোন অবদান ছিল না।বরং বিপরীতটাই সত্য।আর তা হল,তারা জ্যোতির্বিদ্যায় এজন্য অগ্রগতি অর্জন করেছে যে, কোরআনে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা স্থান পেয়েছে।
৩.পদার্থ বিজ্ঞান
অণূকে বিভক্ত করা যায়ঃ প্রাচীন যুগে ‘অণুতত্ব’ নামে একটি তত্ব ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে।২৩০০ বছর আগে, গ্রীকদেশীয় এ তত্বটি যিনি দেন,তার নাম,Democritus।ডেমোক্রিটাস ও তার পরবর্তী যুগের লোকেরা মনে করত যে,বস্তুর সর্বাধিক ক্ষুদ্র একক হচ্ছে,অণু।প্রাচীন আরবরাও তা বিশ্বাস করত।আরবী শব্দ (আরবী ) এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে,অণু।সম্প্রতি,আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, বিভক্ত করা যায়।অণুকে বিভক্ত করার বিষয়টি বিংশ শতাব্দীর আবিষ্কার।আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে এ শব্দটি আরবদের কাছেও ছিল অসাধারণ।কেননা,কেউ (আরবী )শব্দের সীমাবদ্ধ অর্থের গতি অতিক্রম করতে পারেনি।কোরআনের নিম্নের আয়াতটি (আরবী ) শব্দের এই সীমা স্বীকার করেনা।আল্লাহ বলেনঃ
--------------------(আরবী )
“কাফেররা বলে,আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না।বলুন,কেন আসবেনা? আমার প্রতিপালকের শপথ,অবশ্যই আসবে।তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত।আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণ কিংবা তা থেকে ক্ষুদ্র ও বড় কোন কিছুই তার অগোচরে নয়।সমস্তই আছে সুষ্পষ্ট কিতাবে।”( সূরা সাবা-৩) অনুরূপ বর্ণনা সূরা ইউসুফের ৬১নং আয়াতেও আছে।
এ আয়াত আল্লাহর সর্বজ্ঞান এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল কিছু সম্পর্কে অবগতির কথা উল্লেখ আছে।আয়াত আরো বলা হয়েছে,আল্লহ অণু অপেক্ষা ছোট বড় সকল কিছু সম্পর্কে জ্ঞাত।আয়াত পরিষ্কার বলেছে যে, কোন জিনিস অণু অপেক্ষাও ক্ষুদ্র আছে।অণু অপেক্ষা ক্ষুদ্র জিনিসের অস্তিত্ব আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার।
৪.প্রাণী বিজ্ঞান
পাখী ও প্রাণী দল বা সম্প্রদায় হিসেবে বাস করেমহান আল্লাহ বলেনঃ
---------------------(আরবী )
“আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যতপ্রকার পাখী দু’ডানাযোগে উড়ে বেড়ায়,তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি সম্প্রদায় বা দল।”সূরা আল আনআম-৩৮
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণী ও পাখী দলীয়ভাবে বাস করে।অর্থাৎ তারা সংগঠিত এবং এক সাথে কাজ করে ও বাস করে।
পাখীর উড্ডয়ন আল্লাহ বলেনঃ
-----------------------(আরবী )
“তারা কি উড়ন্ত পাখীকে দেখেনা? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে।আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখেনা।নিশ্চয়ই এতে বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।”সূরা নহল-৭৯
অন্য সূরায়ও পাখী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।আল্লাহ বলেনঃ
-------------------------(আরবী )
“তারা কি লক্ষ্য করেনা,তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পাখীকূলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী ?মেহেরবান আল্লাহই তাদেরকে স্থির রাখেন।তিনি সর্ব বিষয় দেখেন।”সূরা মূলক-১৯-২০
আরবীতে (আরবী )শব্দটি,‘কারো হাত উপরে রাখা,‘আটক করা,ধরা,‘কারো পিঠ ধরা,ইত্যাদি অর্থে ব্যবহূত হয়।আর আয়াতের অর্থ হল ‘আল্লাহ নিজ শক্তির বলে পাখীগুলোকে ধরে রাখেন।এ আয়াতগুলো,ঐশী নিয়ম মোতাবেক পাখীর আচরণের চূড়ান্ত নির্ভরতার উপর জোর দেয়।আধুনিক বৈজ্ঞানিক উপাত্ত দ্বারা কিছু বিশেষ প্রজাতির পাখীর চলাচল কর্মসূচীর পূর্ণতার মাত্রা জানা যায়।পাখীগুলোর রয়েছে দূরবর্তী স্থানে গমন কর্মসূচীর জন্মগত বৈশিষ্ট্য।এর ফলে দেখা যায়,পথ প্রদর্শক ও অভিজ্ঞতাবিহীন কম বয়সের পাখীগুলো পর্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল ভ্রমণ কর্মসূচী পূর্ণ করতে পারে এবং তারা একটা নির্দ্দিষ্ট তারিখে প্রস্থান স্থানে পুনরায় ফিরেও আসতে পারে।
অধ্যাপক হামবার্গার তার ‘power and fragility’বইতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী মেষ পাখীর উদাহরণ দিয়ে বলেছেন,এগুলো ইংরেজী সংখ্যা ‘৪’ (আট)-এর আকৃতিতে ২৪ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব ভ্রমণ করে এবং ৬ মাসের মধ্যে ঐ ভ্রমণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে।বড় জোর এক সপ্তাহ দেরীতে প্রস্থান স্থলে পুনরায় ফিরে আসে।পাখীর স্নায়ু কোষের মধ্যে এ জাতীয় জটিল ভ্রমণের জন্য নির্দেশিকা থাকতে পারে।সে গুলো অবশ্যই কম্পিউটারের মত প্রোগ্রাম করা।আমাদের কি কতর্ব্য নয় যে,আমরা কমপক্ষে ঐ প্রোগ্রাম প্রস্তুতকারীর পরিচয় জানার চেষ্টা করি ?
মৌমাছি ও এর দক্ষতা
মহান আল্লাহ বলেনঃ
---------------------- (আরবী )
“আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে আদেশ দিলেনঃপাহাড় - পর্বতের গায়ে,গাছে এবং উঁচু চালে ঘর তৈরি কর।এরপর সকল প্রকার ফল থেকে খাও এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথ সমূহে চল।”সূরা আন নহল-৬৮-৬৯
১৯৭৩ সালে, ‘Von Frisch’মৌমাছির আচরণ ও যোগযোগের উপর গবেষণার জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।‘মৌমাছি কোন নতুন ফুলের বাগানের সন্ধান পেলে মৌচাকে ফিরে আসে এবং মৌমাছির নাচ’নামক আচরণ দ্বারা অন্যান্য সাথীদেরকে সে বাগানের হুবুহু দিক ও মানচিত্র বলে দেয়।অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিকে তথ্য দেয়ার লক্ষ্যে এ আচরণের বিষয়টি ক্যামেরার সাহায্যে ছবি গ্রহণ সহ অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কৃত সত্য।উপরোক্ত আয়াতে,পবিত্র কোরআন মৌমাছি কিভাবে নিজ দক্ষতার মাধ্যমে নিজ প্রভূর প্রশস্ত পথের সন্ধান পায় তা তুলে ধরা হয়েছে।
অধিকন্তু,উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত ক্রিয়াপদে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহূত হয়েছে।(অর্থাৎ (আরবী )এবং (আরবী )চল ও খাও )এর দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে,খাদ্যের অন্বেষণে বাসা ত্যাগকারী মৌমাছি হল স্ত্রী মৌমাছি।অন্যকথায়,সৈনিক বা কর্মী মৌমাছি হল স্ত্রী জাতীয়।
মূলতঃ শেক্সপিয়ারের ‘Henry the fourth’নাটকের কিছু চরিত্রে মৌমাছি সম্পর্কে আলোচনা এসেছে।সেখানে মৌমাছিকে সৈনিক উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তাদের একজন রাজা আছে।শেক্সপিয়ারের যুগে মানুষে এরকমই চিন্তা করত।তাদের ধারণা যে,শ্রমিক মৌমাছিরা পুরুষ।তারা ঘরে ফিরে রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদিহী করে।যাই হোক এটা সত্য নয়।শ্রমিক মৌমাছিরা স্ত্রী জাতীয় এবং তারা রাজার কাছে নয়,বরং বাণীর কাছে জবাবদিহী করে।আজ থেকে ৩শ বছর আগে আধুনিক গবেষণায় তা আবিষ্কৃত হয়েছে।অথচ,কোরআন তা ১৪শ বছর আগে বলেছে।
মাকড়সার জাল ও দুর্বল ঘরআল্লাহ বলেনঃ
-------------------------(আরবী )
“যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে,তাদের উদাহরণ মাকড়সা।সে ঘর বানায়।আর সব ঘরের মধ্যে মাকড়সার ঘরইতো অধিক দুর্বল,যদি তারা জানত।”সূরা আনকাবুত-৪১
কোরআন মাকড়সার দুর্বল অথচ,সুন্দর ও জটিল জালের দৈহিক বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি মাকড়সার ঘরের মধ্যকার দুর্বল সম্পর্কের প্রতিও ইঙ্গিত দিয়েছে।অনেক সময় স্ত্রী মাকড়সা নিজ ঘরে তার পুরুষ সাথীকে হত্যা করে।
এই ক্ষুদ্র উপদেশপূর্ণ দৃষ্টান্তটি সে সব লোকের দুর্বল সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত দেয়,যারা দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাহায্য বা আশ্রয় কামনা করে।
পিঁপড়ার জীবনধারা ও যোগাযোগ আল্লাহ কোরআন করীমে বলেনঃ
-=--------------(আরবী )
“সোলায়মানের সামনে তার সেনাবাহিনীকে জড় করা হল।জ্বিন,মানুষ ও পাখীকূলকে, অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যুহে বিভক্ত করা হল।যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌছল,তখন এক পিপীলিকা বলল,হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের ঘরে প্রবেশ কর।অন্যথায়,সোলায়মান ও তাঁর বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।”সূরা আন নামল-১৭-১৮
অতীতে কেউ হয়তো কোরআনের প্রতি এই বলে উপহাস করে থাকতে পারে যে,কোরআন যাদুকরী কাহিনীর বই,যাতে পিঁপড়ার পরস্পরের কথা এবং উন্নত বার্তা বিনিময়ের বিষয় উল্লেখ আছে।সম্প্রতি,গবেষণার পিঁপড়ার জীবনধারা সম্পর্কে এমন সব বাস্তব সত্য উদঘাটিত হয়েছে,যা আগে মানুষ জানত না।গবেষণায় বলা হয়েছে,মানুষের জীবন সাথে যে সকল প্রাণী ও কীট-পতঙ্গের অধিকতর সাদৃশ্য আছে,সেটা হল,পিঁপড়া।পিঁপড়া সম্পর্কে নিম্নের তথ্যগুলোর আলোকে উপরোক্ত সত্যতা যাঁচাই করা যায়ঃ
১।পিঁপড়া মানুষের মত মৃতদেহ দাফন করে।২।তাদের মধ্যে উন্নতমানের শ্রম বিভক্তি আছে।তাদের মধ্যে রয়েছে,পরিচালক ‘তত্বাবধায়ক ও শ্রমিক’ ইত্যাদি।৩।তারা গল্পের জন্য কোন কোন সময় এক সাথে বসে।৪।নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য তাদের রয়েছে অগ্রিম যোগাযোগ পদ্ধতি।৫।দ্রব্য বিনিময়ের জন্য তাদের বাজার বসে।৬।তারা শীতকাল দীর্ঘ সময়ের জন্য খাদ্য দ্রব্য গুদামজাত করে।খাদ্য শস্যের মুকুল বের হলে,এবং মুকুলিত অবস্থায় রেখে দিলে যদি শষ্যটি পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে,তখনই তারা মুকুলটির গোড়া কেটে দেয়।তাদের গুদামজাতকৃত শস্যদানা যদি বৃষ্টির কারণে ভিজে যায়,তখন তারা এটাকে রোদে নিয়ে শুকায় এবং শুকানোর পর পুনরায় ভেতরে নিয়ে আসে।মনে হয় তারা এটা জানে যে,আর্দ্যতার কারণে শষ্যদানায় মুকুল বের হতে পারে।ফলে শষ্য দানাটি পঁচে যেতে পারে।
.jpg)









No comments:
Post a Comment